বিভূতিভূষণের স্মৃতি জড়িয়ে আছে উঃ ২৪ পরগনার পানিতরের ধুনির ঘরের দুর্গাপুজোয়

Spread the love

Webdesk:

 

পানিতরের দুর্গাপুজো শুধু পুজো নয়, এর সঙ্গে যুক্ত আছে বহু ঐতিহ্য। সেই জমিদারি না থাকলেও এখনও লেগে আছে জমিদারি ঐতিহ্যর গন্ধ। বাংলা সাহিত্য জগতে পানিতর নামটি এক অনন্য স্মৃতিবাহী গ্রাম। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এই গ্রামের পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে ইছামতি নদী। সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর বাড়ি ছিল এখানেই। সেই বাড়িতেই আজও পূজিত হয় ধুনির ঘরের দুর্গা, যা একসময় দুই বাংলার মানুষের কাছে হয়ে উঠেছিল অন্যতম আকর্ষণ। আজ আর জমিদারবাড়ির জৌলুস নেই। তবু হারায়নি পুজোর আভিজাত্য।

 

অষ্টমী ও নবমীতে গ্রামের প্রতিটি মানুষ ভিড় জমান মহাভোজে, যা স্থানীয়রা ‘ভজরাম’ নামে চেনেন। বছরের এই কয়েকটি দিন পানিতর যেন ফিরে পায় তার অতীত ঐশ্বর্য।পানিতরের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে বিভূতিভূষণের জীবনের বহু অজানা অধ্যায়। শৈশবেই বাবার হাত ধরে গ্রামে যাতায়াত শুরু হয়েছিল তাঁর। এখানেই পরিচয় হয় মোক্তার কালীভূষণ মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে গৌরীদেবীর সঙ্গে। পরে যাঁকে তিনি বিয়ে করেন। তবে বিয়ের মাত্র এক বছর পরই কলেরায় অকালে মৃত্যুবরণ করেন গৌরীদেবী। স্ত্রীর শোকে ভেঙে পড়া বিভূতিভূষণ দীর্ঘদিন কাটিয়েছেন এই গ্রামে। এখানেই তিনি লিখেছেন ‘পথের পাঁচালী’ ও ‘ইছামতী’-র মতো অমূল্য সৃষ্টি। আজও ধুনির ঘরের এই পুজো কেবল পুজো নয়, বহু ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক স্মৃতির বাহক।

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *