Webdesk :
পশ্চিমবঙ্গের প্রধান পাহাড়ি শহর অবশ্য দার্জিলিং। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় পাহাড়ি শহর পুরুলিয়া। বহু স্মৃতির স্মারক হয়ে রয়েছে অযোধ্যা পাহাড়। এ পাহাড়ের সবচেয়ে বড় শৃঙ্গ গোরগাবুরু। বসন্তে পলাশ ফুটে পুরুলিয়ার বিভিন্ন গ্রামকে এক আগুনখেলায় মাতিয়ে রাখে। যেদিকে চোখ যায়, লালে লাল সব পলাশগাছ। পুরুলিয়ার ঐতিহাসিক অযোধ্যা পাহাড় ঘিরে রয়েছে খয়রাবেড়া বাঁধ, মার্বেল লেক, তুর্গা লেক, মুখোশ তৈরির ছৌ গ্রাম, পাখি পাহাড়, ময়ূর পাহাড়, পার্দি লেক, বামনি ফলস ও জয়চণ্ডী পাহাড়ের মতো ঐতিহাসিক সব জায়গা।
পুরুলিয়া জেলা একসময় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। বাংলা ভাষার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর পুরুলিয়া পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর আগে পুরুলিয়া ছিল বিহার রাজ্যের মানভূম জেলার সদর মহকুমা। এই এলাকা বাংলাভাষী–অধ্যুষিত হওয়ায় এখানকার বাঙালিরা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দাবিতে আন্দোলন করেন। আর সে আন্দোলনের সূত্র ধরেই বিহারের পুরুলিয়া হয়ে যায় পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া। কথিত আছে, অযোধ্যা পাহাড়ে ১৪ বছরের বনবাসের জীবন কাটাতে এসেছিলেন অযোধ্যার রাজা দশরথের ছেলে রাম, লক্ষ্মণ এবং পুত্রবধূ সীতাদেবী। এ পাহাড়েই তাঁরা কিছুদিন ছিলেন। এখানকার রামভক্তরা তৈরি করেছেন রামমন্দির। সে মন্দির অযোধ্যা পাহাড়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের আকর্ষণ করে। পুরুলিয়া শহর থেকে রাম-সীতার স্মৃতিবাহী সীতাকুণ্ড ৪৭ কিলোমিটার দূরে। এ এলাকার আদিবাসী ‘তুন্দ্র’ সম্প্রদায়ের মানুষ এখনো বনে শিকারে গেলে সীতাকুণ্ডের পানি পান করে যাত্রা করেন। পূজাও দেন রামমন্দিরে।
![]()
















Leave a Reply