সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের বিরুদ্ধে নালিশ পাকিস্তানের 

Spread the love

Webdesk:

 

পাহেলগাঁও কাণ্ডের পরে ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে ‘সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি’ বাতিল করেছে। এর ফলে পাকিস্তানের বিরাট অংশ শুকিয়ে যাওয়া শুরু করেছে। রাষ্ট্রসংঘে নালিশ জানাল পাকিস্তান। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মঞ্চকে গোটা বিষয়টির দিকে নজর রাখতে এবং প্রয়োজনে পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছে ইসলামাবাদ। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রসংঘের বৈঠকে রীতিমতো অসহায় দেখায় পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের। তাদের কাতর অনুরোধ, বড়সড় মানব বিপর্যয়ের আগেই যেন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাক প্রতিনিধি উসমান জাদুন বলেন, “ভারতের চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত মানবাধিকার আইন এবং যাবতীয় আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী। আমরা ভারতের এই বেআইনি ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা করছি। ভারত যেন কঠোর ভাবে চুক্তির শর্ত মেনে চলে। কোনও ভাবেই যেন ওই সমস্ত নদীর জল বন্ধ বা গতিপথ পরিবর্তন না-করা হয়।”

 

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন জল আর রক্ত একসঙ্গে বইতে পারে না। উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালের চুক্তি অনুযায়ী সিন্ধু নদ এবং তার পাঁচটি উপনদীর জল ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে বণ্টিত হয়। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার পর এই চুক্তিই বাতিল করে ভারত। ইসলামাবাদের অভিযোগ, চুক্তি স্থগিত হয়ে যাওয়ার ফলে পাকিস্তানমুখী নদীগুলির জল ছাড়া, বাঁধ দেওয়া প্রভৃতিতে শর্ত লঙ্ঘিত হচ্ছে। পালটা রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনী হরিশ বলেন, “পাকিস্তানের উপর আস্থা রেখে, বিশ্বাস করে ৬৫ বছর আগে ভারত এই চুক্তি করেছিল। যার প্রস্তাবনায় বলা করা হয়েছিল, চুক্তিটি সদিচ্ছা ও বন্ধুত্বের উপর ভিত্তি করে সম্পাদিত হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানে সেই বিশ্বাস, বন্ধুত্বের মর্যাদা রাখেনি। প্রায় সাড়ে ছয় দশক ধরে পাকিস্তান এই চুক্তির অবমাননা করেছে। ভারতের বুকে ৩টি যুদ্ধ ও হাজার হাজার জঙ্গি হামলা চালিয়েছে পাক সন্ত্রাসীরা। গত চার দশক ধরে ২০ হাজারের উপর নিরীহ ভারতীয় এই সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছেন। ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁও হামলা পাকিস্তানের নৃশংসতার প্রমাণ।”

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *